জুলাই ২৩, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। নিউ জার্সির মাঠে ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার পর পরাজয়ের নেপথ্য কারণ নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা থামছেই না। ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি বিশেষ মন্তব্য কেন এত আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।ম্যাচপূর্ব একটি ভিডিও ক্লিপ এই পুরো আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই সংক্ষিপ্ত ভিডিওটিতে দেখা যায়, লিওনেল মেসি সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বলছেন সবকিছু ভুলে গিয়ে কেবল খেলায় মনোযোগ দিতে। এই কথাটি ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে এবং কোন উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল, তা নিয়ে ফুটবল মহলে তৈরি হয়েছে নানা মত। কেউ কেউ মনে করছেন এটি ফাইনালের চাপ কাটিয়ে ওঠার একটি সাধারণ পরামর্শ ছিল, আবার অনেকের মতে এর পেছনে দলের ভেতরকার ভিন্ন কোনো পরিস্থিতি কাজ করেছিল। এরপর দলের ড্রেসিংরুমের আরেকটি দীর্ঘ ভিডিও প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সেই দৃশ্যে দেখা যায়, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে স্পেনের আক্রমণভাগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিচ্ছেন। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ রক্ষণ গুছিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে আলাদা করে উৎসাহ দিচ্ছেন। মেসিও সতীর্থদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ অযথা বেশি ওপরে উঠে না যান। সবশেষে রোমেরো যখন গোলরক্ষককে বলেন যে এটি তাদের দিন, তখন দিবুর জবাব ছিল আজ ইতিহাস লেখা হবে।
স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর সময় কোচ লিওনেল স্কালোনির আবেগপ্রবণ উপস্থিতি এবং ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের অস্বাভাবিক গম্ভীর শরীরী ভাষা সবার নজর কেড়েছে। ওয়ার্মআপের সময় মেসির একের পর এক শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ঘটনাও তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশ বিরল বলে বিবেচিত হচ্ছে। মূল লড়াইয়ে নামার পর পুরো টুর্নামেন্টে চেনা ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনাকে যেন অচেনা ঠেকেছে।
মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দ্রুত স্পেনের হাতে চলে যাওয়ার কারণে লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ দীর্ঘ সময় একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। নির্ধারিত নব্বই মিনিটের পুরো সময়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি, যা তাদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ফুটবলের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। দলের অন্যতম কার্যকর স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ পুরো ম্যাচ বেঞ্চেই কাটিয়েছেন, যা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নাকি অন্য কিছু তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রক্ষণের দুই লড়াকু ফুটবলার রোমেরো ও লিসান্দ্রো চোটের কারণে মাঠ ছাড়লেও তাদের তীব্র ব্যথায় কাতরাতে না দেখার বিষয়টি অনেকের নজর এড়ায়নি। ম্যাচ শেষে ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। অন্যদিকে রেফারিং নিয়েও সমর্থকদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। স্পেনের একাধিক ফাউলের পরও রেফারি কার্ড না দেওয়ায় কিংবা মেসির ওপর ট্যাকল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সমর্থকরা। এসব কিছুর মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব ও জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এসব দাবির পক্ষে বা বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। ফিফা, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি যা থেকে নিশ্চিত করা যায় যে মাঠের বাইরের কোনো ঘটনা ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছিল। মাঠের সমস্ত তিক্ততা ও হারের হতাশার মাঝেই সতীর্থদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মাঠের বাইরের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা অদৃশ্য চাপ ফাইনালে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল কি না, তার কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন