নভেম্বর ৮, ২০২৫, ১০:৫৮ পিএম
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের জোতজয়রাম নয়াপাড়া গ্রামের তরুণ মো. জোবায়ের হোসেন ওরফে পরান (২২)। ২০১৯ সালে এসএসসি পাস করা এই তরুণ বর্তমানে বিরামপুর সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগে অধ্যয়নরত। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি নিজেই শুরু করেছেন এক সাহসী উদ্যোগ—নদীতীরে হাঁসের খামার গড়ে তুলে হয়েছেন সফল তরুণ উদ্যোক্তা।
২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পরান নদীর তীরবর্তী এলাকায় পাঁচ শতক জমি ভাড়া নেন এবং ১,২০০টি একদিন বয়সী হাঁসের বাচ্চা নিয়ে খামার শুরু করেন। শুরুতে অনেক কষ্ট হলেও তিনি দমে যাননি। কিছু হাঁস বিক্রির পর বর্তমানে তাঁর খামারে খাঁকি ক্যাম্বেল ও জিং ডিং জাতের সাড়ে চারশো হাঁস রয়েছে।ডিমের উৎপাদন: বর্তমানে তাঁর খামারের প্রায় সাড়ে ৩০০ হাঁস প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে।আয় ও খরচ: প্রতিদিন হাঁসগুলোর খাবার, ওষুধ ও যত্নে খরচ হয় প্রায় ২,৫০০ টাকা।
প্রতিটি ডিম পাইকাররা খামার থেকেই ১৩ থেকে ১৪ টাকা দরে কিনে নিয়ে যায়। দৈনিক খরচ বাদ দিয়েও তিনি অতিরিক্ত লাভবান হচ্ছেন।পরান জানান, "আমি খামারে সময় দিই প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত। খাবার তৈরি থেকে শুরু করে হাঁসের যত্ন, ডিম সংগ্রহ—সব কিছু আমি নিজেই করি। ছোট পরিসরে শুরু করলেও এখন লাভ হচ্ছে ভালো, ভবিষ্যতে আরও বড় করার ইচ্ছা আছে।"বিনিয়োগ ও ঋণ পরিশোধ
এই খামার শুরু করতে পরান মোট চার লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। তার মধ্যে এক লক্ষ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং তিন লক্ষ টাকা নিজের জমির দুই শতক বিক্রি করে সংগ্রহ করেন। শুরুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আজ তাঁর পরিশ্রমের ফলেই ঋণ প্রায় পুরোটা পরিশোধ করেছেন এবং এখন স্থিতিশীল, স্বচ্ছল জীবনের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।কৃষি কর্মকর্তার মন্তব্য
বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, "শীতকালীন সময়ে হাঁসের ডিমের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। হাঁসের ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে যা পুষ্টিকর ও আমিষসমৃদ্ধ। বর্তমানে খামারিরা এসব ডিম স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন হ্যাচারিতে সরবরাহ করছে।"
পরানের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আশেপাশের অনেক তরুণও হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়রা জানান, বেলাল সরকার, ফারুক আহমেদ, সুজন মিয়া ও মশিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন যুবক এখন হাঁসের খামার করে ভালো আয় করছেন। ফলে এলাকায় তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন