নভেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:৩০ এএম
আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমে ইউটিউব দেখে পাঁচ বিঘা জমিতে চায়না জাতের কমলা চাষ করে সফল হয়েছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের হাবিবুর। বেগমপুর গ্রামে ঢুকতেই এখন চোখে পড়ে সারি সারি কমলার বাগান এবং দূর থেকেই টের পাওয়া যায় পাকা কমলার মিষ্টি সুবাস।
শুধুই কৌতূহল ও আগ্রহ থেকে ইউটিউব দেখে শুরু করেছিলেন বিদেশি ফল চাষের এক নতুন অধ্যায়। আজ সেই আগ্রহই তাকে এনে দিয়েছে বাড়তি আয়ের নতুন এক সম্ভাবনা, যা বদলে দিয়েছে পুরো অঞ্চলের কৃষিবৈচিত্র্য ও আর্থিক চিত্র।
কমলার সুবাস এখন বেগমপুর গ্রামের নতুন পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে হাবিবুরের কমলার বাজারও বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিন মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, এমনকি দূর জেলা থেকেও মানুষ আসছেন বাগানটি দেখতে। কেউ ফল কিনে নিচ্ছেন, কেউবা ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ পরামর্শ নিচ্ছেন নিজেদেরও কমলা চাষ শুরু করার জন্য। বাগানের কর্মচারী সোহাগ জানান, তিনি এই কমলা বাগানে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত থাকেন এবং দেখা শোনা করেন। প্রতিদিনই অনেক মানুষ আসেন, কেউ কমলা কিনতে আবার কেউবা শুধু বাগান দেখতে।কমলা চাষি হাবিবুর জানান, তিনি ইউটিউবে দেখে উৎসাহিত হন যে দেশে-বিদেশে অনেকেই কমলা চাষ করছে। তবে শুরুর বছরগুলোতে পরিচর্যা, সার, পানি ও রোগবালাই নিয়েই দুশ্চিন্তায় ছিলেন বেশি।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, মহেশপুর অঞ্চলের মাটি সব ধরনের ফলচাষের জন্য খুবই উপযোগী। কমলা, মাল্টা ও লেবু জাতীয় ফসলে এখানে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তিনি হাবিবুরের বাগানটিকে এলাকার জন্য একটা সফলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ফলনও ভালো হচ্ছে এবং কৃষি অফিস থেকে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক পরিচর্যার সব ধরনের পরামর্শ তাদের দিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন