রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পদ্মার চরে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ১১:৪৪ এএম

পদ্মার চরে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

রাজশাহী নগরীর অদূরে পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষা প্রায় ২৫০ বিঘা চরের জমি এখন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার নবগঙ্গা এলাকার এই জেগে উঠা চরে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ, শসা ও সাম্মাম চাষ শুরু হয়েছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাবর আলী এই বিশাল চাষাবাদ শুরু করেছেন।শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে নবগঙ্গা এলাকায় দেখা যায়, নদীর ওপারে প্রায় ২৫০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে তিনি এই প্রজেক্ট শুরু করেছেন।

মাটি প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং খুলনা থেকে আসা একদল অভিজ্ঞ কৃষক নির্দিষ্ট দূরত্বে সারি সারি বীজ বপন করছেন।

কেউ বা দিচ্ছেন পানি ও গোবর সার। কৃষি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তরমুজ চাষের উপযুক্ত সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল হলেও, বাবর আলী এবার আগাম জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেছেন। আসন্ন রমজানে রাজশাহীর মানুষকে কম দামে রসালো এই ফল খাওয়াতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করছেন তিনি। এই আগাম তরমুজের বীজ আনা হয়েছে ভারত থেকে।

কৃষি উদ্যোক্তা বাবর আলী বলেন, "রাজশাহী অঞ্চলে তরমুজ চাষের এই উদ্যোগটি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে বলে আশা করছি। আমরা চাই রাজশাহীর মানুষ যেন দক্ষিণাঞ্চল থেকে উচ্চমূল্যে তরমুজ আমদানি না করে কম দামে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তরমুজ পায়।" তিনি জানান, ২৫০ বিঘার মধ্যে শুধু ২০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করা হবে এবং বাকি জমিতে শসা, পেঁয়াজসহ মরুভূমির ফল সাম্মামও চাষের পরিকল্পনা আছে।

তিনি বলেন, "আমার এই প্রজেক্টে প্রায় ১০০ থেকে দেড়শ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে জমিতে প্রায় ৫০ জন কাজ করছেন।" তিনি আশা করেন, শীতের মধ্যেই তরমুজ পাওয়া যাবে। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, তারা সহায়তা করলে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হবে এবং ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও কয়েক হাজার বিঘায় তরমুজ চাষের পরিকল্পনা আছে।

পবা উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, সাধারণ হিসাবে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ তরমুজ উৎপাদন সম্ভব। সে হিসেবে ২৫০ বিঘা জমিতে সাড়ে ১২ হাজার মণ থেকে ১৫ হাজার মণ তরমুজ উৎপাদন হতে পারে। তিনি বলেন, মাটির পিএইচ মান ৬.০ থেকে ৭.৫ এর মধ্যে থাকলে তরমুজ ভালো জন্মে, বিশেষ করে ৭ হলে তা সবচেয়ে উপযোগী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বাইরে উত্তরাঞ্চলে তরমুজ চাষের এই উদ্যোগ কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।