রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শীতের আগমনে আলু চাষে ব্যস্ত চাষিরা, বাম্পার ফলনের আশা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১২, ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম

শীতের আগমনে আলু চাষে ব্যস্ত চাষিরা, বাম্পার ফলনের আশা

শীতের আগমনে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিগুলোতে আলু চাষে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এখন দারুণ ব্যস্ততা। বাম্পার ফলনের আশায় উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কেউ জমিতে সার দিচ্ছেন, কেউ লাঙল দিয়ে চাষ করছেন, আবার কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা এবার আলু রোপণে অধিক ঝুঁকছেন।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে মতলব পৌরসভা, নারায়নপুর পৌরসভা, নায়েরগাঁও উত্তর ও নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন, উপাধি উত্তর ও উপাধি দক্ষিণ ইউনিয়নে বিভিন্ন জাতের আলুর বীজ বপন শুরু হয়েছে।

কৃষকদের আশাবাদ ও ঝুঁকি স্থানীয় কৃষকরা জানান, শীতের শুরুতে বীজ বপন করলে দুই মাসের মধ্যে আলু বাজারজাত করা সম্ভব। ফলন ভালো হলে দামও পাওয়া যাবে তুলনামূলক বেশি। ডিঙ্গাভাঙ্গা এলাকার কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, "ধারদেনা করে প্রায় ১০ একর জমিতে আলু রোপণ করছি। আল্লাহ যদি চায় আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভ করতে পারুম। তবে যদি আলুতে পোকামাকড় ধরে আর বৃষ্টি বেশি হয় তাহলে সবশেষ হয়ে যাবে আমার।" নায়েরগাঁও এলাকার কৃষক মো. আলম, জুয়েল ও ইউসুফ জানান, তারা দিনরাত মাঠে কাজ করছেন। কষ্ট হলেও আলু চাষে লাভ বেশি, যা তাদের পরিশ্রম পুষিয়ে দেবে।

দগরপুর গ্রামের চাষি মোহাম্মদ আলী, বিল্লাল ও শাহ আলম বলেন, তারা বছরে একবার আলু চাষ করেন এবং এই লাভের টাকা দিয়েই তাদের সংসার চলে।কৃষি অফিসের সহযোগিতা মতলব দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৈতন্য পাল কালবেলাকে বলেন, উপজেলার প্রায় সব এলাকায় আলু রোপণ করা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে। তিনি জানান, কৃষি অফিস কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ সংগ্রহে পরামর্শ, সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগবালাই দমনে তারা কৃষকদের সঙ্গে সব সময় আছেন বলেও নিশ্চিত করেন।