ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ১০:০১ এএম
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: আলুর বাজারদর নিম্নমুখী থাকায় লোকসানের ঝুঁকি সত্ত্বেও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় কিছু কৃষক এবারও আলু চাষে নেমেছেন। তবে আলুর বীজের বাজারে ব্যাপক ধস নেমেছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার বীজ বিক্রি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে ১৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চাষের জমি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৮ হেক্টরে।
মাটিরাঙ্গার সারের ডিলার ও বীজ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হাকিম স্টোরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হাকিম জানান, গত বছর তার দোকানে প্রায় ৭০ টন বীজ বিক্রি হলেও চলতি রবি মৌসুমে মাত্র ১৬ টন বীজ বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ, বিক্রি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ।
| মৌসুম | বীজের দাম (প্রতি কেজি) |
| ২০২৩-২৪ | দেশি জাত ৭০ টাকা, ডায়মন্ড ৭৫ টাকা |
| ২০২৫-২৬ | দেশি জাত ৪০ টাকা, ডায়মন্ড ৪৭ টাকা |
আব্দুল হাকিম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, চাহিদা এত কম যে ২ টন বীজ অবিক্রীত থেকে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পাইকারকে ফেরত দিতে হয়েছে।নতুন পাড়ার কৃষক মো. দুলাল মিয়া ১.২ একর জমিতে ডায়মন্ড জাতের আলু রোপণ করেছেন। তার হিসাব মতে, জমি তৈরি, বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ মোট উৎপাদন ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।এই জমি থেকে প্রায় ১২ টন আলু উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়বে ২২-২৫ টাকা। তিনি আশঙ্কা করছেন, বাজারে দাম না বাড়লে তাকে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ভর্তুকির আশ্বাস ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছি। আরেক কৃষক আব্দুর রব জানান, গত মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে উঠতেই এবার অল্প জমিতে চাষে নেমেছেন।মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেন, গত মৌসুমে লোকসান হওয়ায় এবং কৃষকদের বিকল্প শস্য আবাদে উৎসাহিত করতে চলতি মৌসুমে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম রাখা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা কৃষকদের বিকল্প বাজার খোঁজা, গুদামজাতকরণ এবং উৎপাদন পরিকল্পনায় আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।সার্বিকভাবে, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা একবাক্যে বলছেন, আলুর বাজারদর না বাড়লে আগামী মৌসুমে এই অঞ্চলে আলু চাষ আরও অনেক কমে যাবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন