রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কমলা চাষে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছেন শিবচরের উদ্যোক্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০১:০০ পিএম

কমলা চাষে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছেন শিবচরের উদ্যোক্তা

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া মৃধাকান্দি এলাকায় কমলা চাষে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা রাসেল হোসেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে বাবার গড়ে তোলা শখের বাগানকে কেন্দ্র করে তিনি এখন নিজ এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

বিদেশফেরত অনেক যুবক যেখানে কর্মসংস্থানের অভাবে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, সেখানে রাসেল নিজের উদ্যোগে একটি সফল উদাহরণ তৈরি করেছেন।

ছয় বছর আগে রাসেলের বাবা শওকত হোসেন দেড় বিঘা জমিতে ৬০টি ছোট জাতের কমলার চারা রোপণ করেছিলেন। প্রথমদিকে ফলন উল্লেখযোগ্য না হওয়ায় বাগানটি তেমন গুরুত্ব পায়নি।

তবে ২০২১ সালের শেষ দিকে রাসেল দেশে ফিরে বাগানের দায়িত্ব নেন এবং পরিবর্তন আসে। তিনি ইন্টারনেট ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। সার-সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও ছাঁটাই সবকিছু নতুন পরিকল্পনায় করা হয়।এর ফলস্বরূপ ২০২৪ সালে কমলা বাগানে ব্যাপক ফুল আসে এবং মৌসুম শেষে গাছগুলোতে ভরে ওঠে রঙিন কমলায়।রাসেল জানান, এ বছর আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও কমলার স্বাদ ও গুণগত মান আগের বছরের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে।

টকভাব কমে গিয়ে মিষ্টতা বেড়েছে, যা ক্রেতাদের মাঝে বাড়তি সাড়া ফেলেছে।বর্তমানে তার কমলা পাইকারি এবং খুচরা উভয় পদ্ধতিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে তিনি প্রতি কেজি কমলা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনেক ক্রেতা সরাসরি বাগানে এসে ফরমালিনমুক্ত কমলা কিনে নিচ্ছেন।শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন,স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত চারা বিতরণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা এবং কৃষি ঋণের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই অঞ্চলে সাইট্রাস ফলচাষ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।”

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিবচরে মাল্টা, কমলা ও লেবুসহ বারোমাসি ফলচাষের পরিমাণ বাড়ছে। রাসেলের সফলতা তরুণ সমাজকে কৃষির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।