বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

হাঁস ও মাছের সমন্বিত খামারে সফল কলেজছাত্র

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

হাঁস ও মাছের সমন্বিত খামারে সফল কলেজছাত্র

হাঁস খামার

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পড়াশোনার পাশাপাশি পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আলী মর্তুজা তাজিম। উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের শেরপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এই খামার থেকে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।পুকুরের ওপরে মাচার ঘর তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে হাঁস পালন করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

দেড় বছর আগে পাঁচ বছরের চুক্তিতে লিজ নেওয়া পুকুরে প্রথমে মাছ চাষ শুরু করেন তাজিম। পরে মাছের খাদ্যের খরচ কমাতে পুকুরের ওপরে হাঁস পালনের উদ্যোগ নেন। হাঁসের মল সরাসরি পুকুরে পড়ায় তা পাঙ্গাশসহ অন্যান্য মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে মাছের বৃদ্ধি যেমন ভালো হচ্ছে, তেমনি হাঁস পালনের ঘর পরিষ্কারের বাড়তি ঝামেলাও থাকছে না। খামারের শেড বা ঘর তৈরিতে তাঁর প্রায় এক লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।প্রাথমিক অবস্থায় অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথম কয়েকটি ধাপে খুব বেশি লাভ না হলেও সম্প্রতি ভালো অঙ্কের মুনাফা পেয়েছেন তিনি।

তাজিমের বাবা নূর মোহাম্মদ সরকার খামারটি নিয়মিত দেখভাল করেন। তিনি জানান, সর্বশেষ ব্যাচে দুই হাজার ৩০০ হাঁস পালন করা হয়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই মাংসের জন্য বিক্রি হয়েছে। শ্রমিক, হাঁসের বাচ্চা ও খাদ্যের পেছনে দুই লাখ টাকা খরচের পর প্রায় সমপরিমাণ টাকা লাভ এসেছে। বর্তমানে খামারে ডিম পাড়া হাঁসসহ আরও প্রায় ২০০ হাঁস রয়েছে। গ্রামের অন্যান্য হাঁসের মতো তাঁদের খামারে কোনো ধরনের রোগবালাই ছড়ায়নি।

তাজিম জানান, খামারে লোক রাখা আছে, আর পরিবারের সদস্যরাও নিয়মিত দেখাশোনা করেন। নিজের হাতে ব্রুডিং শেডের কাজ সামলান তিনি। সকালে হাঁসগুলোকে মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যার আগে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনা হয়। উন্মুক্ত পরিবেশে হাঁসগুলো চরে বেড়ানোর কারণে খাদ্য খরচ অনেকটা সাশ্রয় হয়। পরিবারের বড় ভাইদের আর্থিক সহায়তায় এই খামার গড়ে তুলেছেন তাজিম।

ভবিষ্যতে কৃষি খাতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে এই তরুণের। সমন্বিত এই খামারের পাশাপাশি তিনি তিন হাজার বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন। আগামীতে মৎস্য হ্যাচারি ও জৈব সার উৎপাদনের মতো নতুন উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি।