নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রাণ হারিয়েছে নবাবগঞ্জের মেয়ে গৃহবধূ লিমা রানী। বিয়ের সময় মেয়ের পরিবার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ষোলো লাখ টাকার উপহার দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি এই গৃহবধূ। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।
নিহত লিমা রানী দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার পার্বতীপুর উপজেলার চাচোয়া খামার এলাকার বাসিন্দা।
নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে লিমা রানীর সঙ্গে প্রফুল্ল চন্দ্র সরকারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের পরিবার বরপক্ষকে নগদ তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন উপহার দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব উপহারের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ষোলো লাখ ছত্রিশ হাজার টাকা।
কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরও যৌতুকের দাবিতে লিমা রানীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
একপর্যায়ে প্রায় দুই বছর আগে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দিনাজপুরের একটি আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাসে তাঁকে আবারও স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত তিন নভেম্বর সকালে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আবারও দশ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বাবার বাড়ি থেকে ওই টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিমা রানীকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়। এমনকি হাতের কবজিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে আঘাতের অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার নভেম্বর রাত নয়টা পাঁচ মিনিটে লিমা রানীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী প্রফুল্ল চন্দ্র সরকারসহ শ্বশুরবাড়ির একাধিক সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের কারণেই তাঁদের মেয়ের এমন করুণ পরিণতি হয়েছে।
মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন