আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পঁচিশ-ছাব্বিশ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এই জলাধার থেকে প্রায় দশ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে, যা থেকে সরকার প্রায় বাইশ কোটি ষাট লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে।
আহরিত এই বিপুল পরিমাণ মাছের বাজারমূল্য কয়েকশো কোটি টাকারও বেশি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।প্রায় আটান্ন হাজার তিনশ হেক্টর আয়তনের এই হ্রদ দেশের অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন এই বিশাল হ্রদে পঁচিশ থেকে সাতাশ হাজার নিবন্ধিত জেলে মাছ ধরার পেশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।
বাঙালি, চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এসব জেলে দল বেঁধে ঘের জাল ব্যবহার করে প্রতিদিন মাছ শিকার করেন এবং হ্রদের বুকে ভাসমান ছোট দ্বীপগুলোতে অস্থায়ী আস্তানা গড়ে তোলেন। হ্রদে প্রায় ছিয়াশি প্রজাতির মাছ থাকলেও বিয়াল্লিশ প্রজাতির মাছ বাণিজ্যিকভাবে বেশি আহরণ করা হয়, যার মধ্যে পঁচাত্তর শতাংশই হলো কাচকি ও চাপিলা মাছ।প্রতিবছর আগস্ট থেকে এপ্রিল পর্যন্ত টানা নয় মাস মাছ ধরা চলে এবং প্রাকৃতিক প্রজননের স্বার্থে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সরকারি শুল্ক পরিশোধ ও বরফ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করার পর ট্রাকযোগে এসব মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় এবং এই বৈশ্বিক অর্জনে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন