জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১০:২০ এএম
কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার মাকে অপমান ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গভীর দুঃখ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান। আমির হামজা লিখেছেন যে সারাদিনের নির্বাচনী ব্যস্ততা শেষ করে বিশ্রামের জন্য বালিশে মাথা রাখতেই তার মনে পড়েছে দিনের বেলায় ঘটে যাওয়া সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি।
তিনি অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে উল্লেখ করেন যে প্রকাশ্য দিবালোকে কেউ একজন তার মাকে অপমান করেছে যা একজন সন্তান হিসেবে মেনে নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
তার এই স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার সকালে যখন আমির হামজার মা এবং নারী কর্মীরা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন।
অভিযোগ উঠেছে যে ওই ইউনিয়নের বাক্স ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের পথরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের দাবি অভিযুক্তরা প্রচারণায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সাথে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং হাতে থাকা নির্বাচনী লিফলেটগুলো ছিঁড়ে ফেলে দেয়। এই সময় আমির হামজার মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং মৌখিকভাবে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতে আমির হামজা নিজেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন।
মুফতি আমির হামজা তার ফেসবুক পোস্টে সাধারণ মানুষের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন যে যারা দিনের আলোতে মা-বোনদের সাথে এমন নোংরা আচরণ করতে পারে তাদের কাছে নারীরা কতটা নিরাপদ। এই ঘটনাকে তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক হামলা হিসেবে নয় বরং সামাজিক অবক্ষয় হিসেবেও দেখছেন। কুষ্টিয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে এবং অনেকেই একজন ধর্মীয় বক্তার মায়ের প্রতি এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন।
যদিও অভিযুক্ত যুবদল নেতার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে তারা ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নির্বাচনকালীন সময়ে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনা এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন