রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বাংলাকে ধারণ করতে হলে ‘ইনকিলাব’ চলবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

বাংলাকে ধারণ করতে হলে ‘ইনকিলাব’ চলবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বক্তব্য দিচ্ছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাকে যদি সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হয়, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান চলবে না। তিনি মন্তব্য করেন, ইনকিলাব এদেশের ভাষা নয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা ইনকিলাব মঞ্চের সাথেও বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই। শনিবার বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভাষা দিবসে কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা প্রথাগত কর্মসূচি পালন করলেই চলবে না, বরং ভাষা ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইনকিলাব শব্দটি মূলত সেই পক্ষগুলোর ভাষা, যারা একসময় আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। 

বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এই শব্দগুলো ব্যবহার করছে যা জাতীয়তাবোধের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশকে ভালোবাসতে হলে একে আগে সব ধরনের অপসংস্কৃতি থেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। তবেই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্মরণ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এই ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে বলেই আজ তিনি মন্ত্রী হতে পেরেছেন এবং এ ধরনের কথা বলার অধিকার পেয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সত্য কথাগুলো বলার কারণে তাকে অনেকে বিরূপ সমালোচনা করতে পারে বা অন্য কোনো তকমা দিতে পারে। তবে সত্য প্রকাশে তিনি অবিচল থাকার ঘোষণা দেন। তিনি মনে করেন, নিজের ভাষা এবং ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে চেনার মাধ্যমেই বাংলা ভাষা রক্ষা করা সম্ভব। নিজের দেশের ও নিজের যা কিছু আছে তাকে সম্মান করতে শেখার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক কামরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আজিজুর রহমান দুলাল। সভায় বক্তারা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলার চর্চা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভা শেষে ভাষা দিবসের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।