শহিদুল ইসলাম
এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত মিমনুর রহমান ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ডাঙ্গপাড়া এলাকার ভ্যানচালক আলমগীর হোসেনের বড় ছেলে ছিল।পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ মিমনুর রহমান ছিনতাইকারীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারায়।
এই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। একজন মেধাবী ছাত্রের এমন অকাল ও নিষ্ঠুর মৃত্যুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতেই মূলত আজকের এই রাজপথের কর্মসূচি।
বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে ন্যায়বিচারের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা। শোকাতুর পরিবেশে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান। এছাড়া শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদে শামিল হন।
বক্তব্য প্রদানকালে শিক্ষকরা বলেন, মিমনুর ছিল অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী এক কিশোর। একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর জীবন এভাবে ছিনতাইকারীদের হাতে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানান। একই সাথে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান বক্তারা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন সন্তান হারাতে না হয়।
এদিকে ঘটনার তদন্ত ও অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম। তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং বর্তমানে পুলিশি তদন্তাধীন রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রদান করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বর্তমানে নিহত মিমনুরের পরিবারে চলছে মাতম। একমাত্র বড় সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা এখন দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পুরো জলঢাকা উপজেলায় এখন মিমনুর হত্যার বিচারই প্রধান আলোচনায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।