রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১১:১৮ এএম

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

সীমান্তে গুলিতে প্রাণহানি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে ধবলগুড়ি সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন (৪৯) পাটগ্রামের ধবলগুড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় একাধিক সূত্র।

তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীন ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। বিজিবি ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে সাতগ্রাম বিএসএফ ক্যাম্পের এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়।

 ভোররাত ২টা ৫০ মিনিট ও ৪টা ৫০ মিনিটে পৃথকভাবে দুই দফা গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই আলী হোসেনের নিহতের খবর সামনে আসে।

বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রাথমিক যোগাযোগে জানানো হয়েছে যে, ৭ থেকে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন। সেই সময় বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে কথিত চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি হয়। সেই সময় বিএসএফ সরাসরি গুলি চালালে আলী হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিকটস্থ ভারতীয় হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর বুধবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। বর্তমানে সীমান্তের পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং মরদেহ ফেরত আনার প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। 

সেই সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিং বা পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সীমান্তে রক্তপাত বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিজিবি কর্মকর্তাদের মতে, পতাকা বৈঠকের পরই ঘটনার প্রকৃত বিবরণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।