বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

রাজধানীর ৭ পাম্পে মোটরসাইকেলে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

রাজধানীর ৭ পাম্পে মোটরসাইকেলে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক

পাম্পে ফুয়েল পাস অ্যাপ ব্যবহার

রাজধানীর সাতটি নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জ্বালানি তেল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। রোববার ১৩ এপ্রিল থেকে এই সিস্টেমটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির উদ্যোগে এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুরুতে রাজধানীর মাত্র দুটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল। 

পাইলট প্রজেক্টের সফলতার পর এখন আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে রাজধানীর মোট সাতটি বড় ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকেরা অ্যাপ ছাড়া জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন না।

বর্তমানে রাজধানীর যেসব স্টেশনে এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন। এ ছাড়া তালিকায় আরও আছে মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন। এসব পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের এখন থেকে কেবল ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমেই পেট্রল ও অকটেন সংগ্রহ করতে হবে।

নতুন এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমেই কেবল জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। সিস্টেম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার নির্ধারিত বরাদ্দ বা লিমিট অনুযায়ী তেল নিতে পারবেন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের এন্ট্রি ডিজিটাল সার্ভারে সম্পন্ন হওয়ার পরই সরবরাহকারী মেশিন সচল হবে। এই ব্যবস্থার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ-র কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে পাম্পে তেল নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট যানবাহনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

যাদের স্মার্টফোন নেই বা যারা সরাসরি অ্যাপ ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে নিজেদের কিউআর কোডটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখতে পারবেন। তেল নেওয়ার সময় ওই প্রিন্ট করা কিউআর কোডটি দেখালেই পাম্পের কর্মীরা তা স্ক্যান করে জ্বালানি দেবেন বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। মূলত অবৈধভাবে তেল মজুদ রোধ এবং প্রকৃত গ্রাহকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি পৌঁছে দিতেই এই প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিপিসি আশা করছে, এই ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে।