রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাম্পে ফুয়েল কার্ড চেক করার সময় ইউএনও’র ওপর হামলা, আহত বডিগার্ড

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

পাম্পে ফুয়েল কার্ড চেক করার সময় ইউএনও’র ওপর হামলা, আহত বডিগার্ড

ছবি-দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক। শনিবার দুপুরে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ ইউনিয়নের মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় ইউএনও’র দেহরক্ষী তৈবুল আহত হন। 

হামলাকারীরা তাঁর সরকারি অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আহত ওই পুলিশ সদস্য দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের দিকে ভাউলাগঞ্জ ইউনিয়নের ওই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, লাইনে থাকা অধিকাংশ চালকের কাছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফুয়েল কার্ড বা বৈধ কাগজপত্র ছিল না। 

এতে বৈধ লাইসেন্সধারী চালকরা তেল পাচ্ছিলেন না এবং এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও সবুজ কুমার বসাক ঘটনাস্থলে পৌঁছান।ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউএনও ঘোষণা করেন যে, যাদের কাছে ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র নেই তারা যেন লাইনে না দাঁড়ান। এ সময় নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় এবং বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই চালককে তাৎক্ষণিক ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। 

জরিমানা করার বিষয়টি উপস্থিত কিছু মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জরিমানা করার কিছুক্ষণ পরই বিপরীত দিক থেকে প্রায় শতাধিক লোকের একটি মিছিল এসে হঠাৎ ইউএনও এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।হামলাকারীরা দায়িত্বরত বডিগার্ড তৈবুলকে লক্ষ্য করে চড়াও হয় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দেহরক্ষী গুরুতর আহত হন। 

পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইউএনও স্থানীয়দের সহায়তায় আত্মরক্ষার্থে নিকটবর্তী মুমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউএনওকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে।ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক জানান, ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির খবর পেয়েই তিনি পাম্প পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। 

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এবং বিশৃঙ্খলা করায় দুজনকে জরিমানা করতেই একদল লোক সংগঠিত হয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। তারা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দেহরক্ষীর অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক জানিয়েছেন, ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যেহেতু এটি রাষ্ট্রীয় কাজে সরাসরি বাধা প্রদান, তাই জড়িতদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।