বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বঙ্গোপসাগরে মাছের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে এই বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে, যা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। 

সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সফল করতে উপকূলীয় জেলা ভোলার মৎস্য বিভাগ ও টাস্কফোর্স কমিটি ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

নিষেধাজ্ঞার খবর পেয়ে সমুদ্রগামী জেলেরা তাদের জাল ও ট্রলার নিয়ে ইতিমধ্যে নিজ নিজ এলাকার নদী ও সংযোগ খালগুলোতে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। উপকূলীয় জেলা ভোলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৬৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তবে জেলেদের এই প্রতিকূল সময়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রগামী মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে এই সময়ে মোট ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল প্রদান করা হবে।ভোলা জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলে রয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলায়, যার সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৬১ জন। এ ছাড়া দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন এবং লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন জেলে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন।

বোরহানউদ্দিন, তজুমুদ্দিন এবং ভোলা সদরের জেলেরাও এই সময়ে সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। ভোলার বিভিন্ন মাছ ঘাটে দেখা গেছে, জেলেরা তাদের ট্রলার ও সরঞ্জামাদি নিরাপদে রাখছেন। কেউবা ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন, আবার কেউ ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের পক্ষ থেকে একটি বড় দাবি উঠে এসেছে জলসীমানায় বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ নিয়ে। 

ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা মিয়া জানিয়েছেন, জেলেরা সরকারি আইন মেনে তীরে ফিরলেও এই সময়ে যেন বিদেশি জেলেরা বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। জেলেরা মনে করেন, সাগরে প্রশাসনের টহল ও অভিযান জোরালো হলে নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যাপ্ত মাছ আহরণের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মৎস্য সম্পদের সমৃদ্ধি আনবে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ মাছ ঘাটগুলোতে সচেতনতামূলক সভা ও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলেদের অভাব লাঘবে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই চাল বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সমিতির নেতারা মনে করছেন, যথাসময়ে খাদ্য সহায়তা এবং এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হলে উপকূলের এই দরিদ্র জেলেরা আগামী ৫৮ দিন কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে অতিবাহিত করতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ আইন অমান্য করে সাগরে মাছ ধরার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।