মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

পুলিশের সাড়াশি অভিযান ১০ ডাকাত গ্রেফতার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

পুলিশের সাড়াশি অভিযান ১০ ডাকাত গ্রেফতার

পঞ্চগড়ে বড় ধরণের ডাকাতির ছক ভেস্তে দিয়েছে জেলা পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১০ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের এই যৌথ অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। 

জেলা পুলিশের নিয়মিত তহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সাফল্য এসেছে বলে জানা গেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে গোয়েন্দা শাখা খবর পায় যে, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় সদর থানাধীন দশমাইল এলাকায় প্রবেশ করেছে। 

এই সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে রাত সাড়ে চারটার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের পাশে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে অভিযান চালানো হয়। 

সেখানে একটি ট্রাকের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা রঙের পুরাতন নিশান মাইক্রোবাস তল্লাশি করে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভাবকী ডাঙ্গাপাড়ার প্রদীপ রায় এবং চিরিরবন্দর উপজেলার ভুষীর বন্দরের মোঃ জহুরুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ওই দুইজন স্বীকার করেন যে, তারা একটি বড় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য এবং তাদের আরও আটজন সহযোগী দশমাইল এলাকার আশেপাশে অবস্থান করছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে সদর থানার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের বাকি আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এই দলে পঞ্চগড় সদরের ইসলামবাগের মোঃ নুর ইসলাম পাচকেল ছাড়াও রংপুরের কোতয়ালী ও বদরগঞ্জ এলাকার মোঃ আঃ সালাম, মোঃ ফারুক ও মোঃ আবু সুমন এবং দিনাজপুরের কোতয়ালী ও চিরিরবন্দর এলাকার মোঃ খায়রুল ইসলাম, মোঃ বাবুল হোসেন, মোঃ আঃ মান্নান ও মোঃ মমিন ইসলাম রয়েছেন। এর মধ্যে আঃ মান্নান বর্তমানে দিনাজপুরের কোতয়ালী থানায় ভাড়াবাসায় বসবাস করছিলেন।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তারা তাদের ডাকাতির সরঞ্জামগুলো সদর থানাধীন সাতমেড়া ইউনিয়নের চেকরমারী ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন একটি পাথর গ্যারেজ অফিসের সামনে বালুর ঢিবিতে লুকিয়ে রেখেছে। পরে পুলিশ আসামিদের নিয়ে সেখানে অভিযান চালায় এবং বালুর ঢিবি খুঁড়ে একটি প্লাস্টিকের বস্তা ও ব্যাগ উদ্ধার করে। এর ভেতর থেকে একটি বড় ও একটি মাঝারি ধারালো ছুরি, দুটি কাটার মেশিন, দুটি স্লাইরেঞ্জ, একটি প্লাস, হ্যাক্স ব্লেড, রশি, টর্চ লাইটসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত সদস্যরা অকপটে স্বীকার করেছে যে, তারা ইতোপূর্বে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক ডাকাতি সংঘটন করেছে। সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। সোমবার বিকেলেই ধৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের এ ধরণের বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।