রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কালবৈশাখীতে সব হারালেন জসিম, ৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

কালবৈশাখীতে সব হারালেন জসিম, ৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে

মেঘনা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর বহু কষ্টে গড়ে তোলা শেষ আশ্রয়টুকুও কালবৈশাখীর ঝড়ে হারিয়েছেন সুবর্ণচরের কৃষক জসিম উদ্দিন। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

জানা গেছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন একসময় নদীভাঙনে সব হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নেন। পরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে সেখান থেকেও সরে যেতে বাধ্য হন। সবশেষে বেড়িবাঁধের পাশে খাস জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় তাঁর সেই ঘর। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের স্থানে পড়ে আছে ভাঙা টিন, ছিন্ন বাঁশ ও ধ্বংসস্তূপ। ঘটনার চার দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি জসিম। বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা।

জসিম উদ্দিনের স্ত্রী অজিবা খাতুন বলেন, "আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। যেটুকু ছিল, সেটাও শেষ হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে পারি না, বসে বসেই রাত কাটাতে হয়।"ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন জানান, নদী তাঁদের ভিটেমাটি নিয়েছে, বাঁধের সময় আশ্রয় হারিয়েছেন। শেষমেশ এই ছোট ঘরটাই ভরসা ছিল। কালবৈশাখী সেটাও কেড়ে নিল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন তা বুঝতে পারছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অনেক পরিবারই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। তবে ধারাবাহিক দুর্যোগে তাঁদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ স্থায়ী আশ্রয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নিয়ে দ্রুত তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।