মে ১৬, ২০২৬, ১২:৪২ এএম
ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো ইমাম মাওলানা মুজাফফর আহমদ জুবায়ের সামাজিক লাঞ্ছনা ও আইনি লড়াইয়ের ক্ষত সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ডিএনএ টেস্টে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও শেষ রক্ষা হলো না ফেনীর এই মক্তব শিক্ষকের। তিনি এখন রাজধানীর আদাবরের একটি বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজার ছোট ভাইয়ের বাসায় অবস্থানকালে মাওলানা জুবায়ের হঠাৎ মারাত্মকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করেন এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর চড়াও হন।
একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের মালিককে আঘাত করার চেষ্টা করলে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে ইনজেকশন দেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় এবং আইনি অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে প্রথমে তাকে সরকারি হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালে তার ঢাকা পৌঁছালে তাকে আদাবরের এনলিগটেনড সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুল আশরাফ কুশল এই অসহায় ইমামকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার জেরে জুবায়েরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছিল। গ্রেফতারের পর তিনি টানা ৩২ দিন কারাভোগ করেন এবং এর জেরে মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। পরবর্তীতে সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে ওই কিশোরীর আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের সম্মান আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে ইমামকে ফাঁসানো হয়।
পুলিশ গত ১৭ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে নিরপরাধ জুবায়েরকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। অসুস্থ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে গত ৯ মে ফেনীতে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এই ইমাম। মামলার খরচ মেটাতে তাকে নিজের পৈতৃক জমিও বিক্রি করতে হয়েছিল। চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানোর কয়েক দিনের মাথায় তিনি সম্পূর্ণ মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন