জুন ২, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বা ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল বার্তা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জানাজা ঢাকাতে করতে না দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রসঙ্গটি বেশ জোরালোভাবে টেনে আনেন।
তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে অতীতে আওয়ামী লীগ অন্যায় করলেও বর্তমানে তোফায়েলের জানাজায় কেউ কোনো ধরনের বাধা দিচ্ছে না এবং এটিই মূলত শত্রুর প্রতি তাঁদের ইনসাফ বা ন্যায়বিচার।বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে চরম জুলুম ও অন্যায় করা হয়েছিল, সাধারণ মানুষ তা কখনোই ভুলে যাবে না।
এবি জুবায়ের তাঁর পোস্টে দাবি করেন যে তোফায়েল আহমেদরা একসময় বরেণ্য ধর্মীয় নেতা আল্লামা সাঈদীর জানাজা ঢাকার মাটিতে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সম্পন্ন করতে দেয়নি এবং কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুঁড়ে লাশ ছিনিয়ে নিয়েছিল।
এমনকি ভোলার পবিত্র মাটিতে ছাত্রদল নেতা নূরে আলমের জানাজা আয়োজনেও তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ দেড় শতাধিক মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। রক্ষীবাহিনীর বিতর্কিত কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতার রাজনৈতিক আমলনামা ও অন্যায়ের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ বলে তিনি মন্তব্য করেন।পার্থিব অপরাধের যথার্থ বিচার শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহর আদালতেই নিশ্চিত হবে বলে তরুণ এই ছাত্রনেতা তাঁর লেখায় গভীর বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে তোফায়েল আহমেদের জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও এর আড়ালে কোনো নিষিদ্ধ বা গণহত্যাকারী সংগঠনের রাজনৈতিক তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা খুনি সংগঠনের পুনর্বাসনের অপচেষ্টাকে বিন্দুপরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। পরিশেষে ভোলা জেলা ছাত্রদল ও যুবদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ফ্যাসিবাদের দোসরদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে জামায়াত ও এনসিপিসহ সকল প্রগতিশীল শক্তিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন