জুলাই ৮, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
অতিবর্ষণের জেরে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধসের ঘটনায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকির মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বান্দরবানে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর পাহাড়ের মাটি ও গাছ ধসে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এলাকাটি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। কাপ্তাই থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা সড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য মাইকিং করা হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পাঁচটি ইউনিয়নে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় নিতে আসা বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে বান্দরবানের জনজীবনে সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, তবে ছোট আকারের পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসসহ জেলা প্রশাসনের সব সংস্থা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অব্যাহত বর্ষণে যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন