অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
সাজেক পর্যটন সড়কে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বন্ধ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে দুটি স্থানীয় সংগঠন। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এই প্রধান পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি কার্যকর হবে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সিদ্ধান্তে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির শীর্ষ নেতারা অনির্দিষ্টকালের এই সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৮ অক্টোবর আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সাজেক এলাকায় অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএসের নাম ব্যবহার করে একটি সশস্ত্র দল সাজেক এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সন্ত্রাসীদের তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং প্রতিবাদকারীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে।
সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার যৌথ স্বাক্ষরে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকবাসীর সার্বিক জানমাল রক্ষা এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা বাধ্য হয়ে এই কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
অবরোধ সফল করতে সাজেক ইউনিয়নসহ বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার যানবাহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে মানবিক কারণে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যান, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কর্মসূচির বিষয়ে আয়োজকরা লিখিতভাবে কিছু জানায়নি।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, আয়োজকরা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি না দিলেও রোববার সকাল থেকে অবরোধের ঘোষণার বিষয়টি তারা শুনেছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। শনিবার থেকেই এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সারা দিন অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানান, অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের উদ্যোগে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় শনিবার সকালেই অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন