অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকলেও সচল থাকবে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা। উৎপাদন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কারখানায় সামগ্রিকভাবে কোনো সাধারণ ছুটি থাকছে না। তবে কর্মরত সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিক-কর্মচারীরা নির্ধারিত পূজা উদযাপনে ছুটি নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তাদের এই ছুটি বাৎসরিক নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে কেটে সমন্বয় করা হবে।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এবং নিট পোশাকশিল্পের সংগঠন বিকেএমইএর দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। পূজা ঘিরে সরকারি সিদ্ধান্তে পাঁচ দিনের ছুটি মিলছে।
গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন।
পরবর্তীতে গত ১২ অক্টোবর বেসরকারি খাতের ছুটি প্রসঙ্গে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি নির্ধারণের বিষয়টি বাংলাদেশ শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী মালিক ও শ্রমিকপক্ষের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
পোশাক খাতের বাৎসরিক ছুটির কাঠামো ব্যাখ্যা করে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ক্যালেন্ডার বছরের শুরুতে প্রতিটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্রেড ইউনিয়ন কিংবা শ্রমিক অংশগ্রহণ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে মোট ১৩ দিনের সাধারণ ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করে।
ওই নির্ধারিত তালিকায় দুই ঈদে তিন দিন করে মোট ছয় দিন এবং মে দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। সাধারণত তৈরি পোশাক কারখানার ওই ১৩ দিনের বাৎসরিক তালিকায় দুর্গাপূজার কোনো সাধারণ ছুটি রাখা হয় না। এর ফলে কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিক পূজায় অনুপস্থিত থাকতে চাইলে তা তাদের প্রাপ্য নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি হিসেবে গণ্য করে সমন্বয় করে নেওয়া হয়।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত বুধবার সদস্য কারখানাগুলোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেছে বিজিএমইএ। নির্দেশনায় প্রচলিত শ্রম আইন ও বিধিমালায় উল্লেখিত উৎসব ছুটির ধারা অনুসরণ করে নিজ নিজ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি মঞ্জুর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কারখানা ছুটির বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে বিজিএমইএ জানায়, সরকারের ঘোষিত ছুটির সঙ্গে মিল রেখে গত ৮ অক্টোবর সংগঠনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কিছু গণমাধ্যমে এই প্রাতিষ্ঠানিক ছুটিকে ভুলভাবে পুরো পোশাক খাতের জন্য টানা তিন দিনের কারখানা ছুটি হিসেবে প্রচার করা হয়। এতে শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে পরবর্তীতে ২২ অক্টোবরের অফিস ছুটি বাতিল ঘোষণা করেন বিজিএমইএর সভাপতি।
তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের উৎসব উদযাপনে নিজস্ব ছুটি ব্যবহারের এই নিয়মের তীব্র বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার বলেন, দুর্গাপূজার মতো প্রধান ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে যদি শ্রমিকদের নিজস্ব নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি খোয়াতে হয়, তবে সেটিকে কোনোভাবেই উৎসব ছুটি বলা চলে না। ধর্মীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে এটি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন