মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কক্সবাজার সৈকতে বন্ধ হচ্ছে লাইফগার্ড সেবা, নেপথ্যে কী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫, ০২:৪৩ পিএম

কক্সবাজার সৈকতে বন্ধ হচ্ছে লাইফগার্ড সেবা, নেপথ্যে কী

ছবি - সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পর্যটকদের জীবন রক্ষায় কাজ করে আসা বেসরকারি সংস্থা সি-সেইফ লাইফগার্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তহবিল সংকটের কারণে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এই লাইফগার্ড সেবা আর থাকবে না। এতে করে ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মীসহ সংস্থার মোট ৩৫ জন কর্মসংস্থান হারাবেন। এই ঘটনা সৈকতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

২০১২ সাল থেকে বিদেশি সংস্থা ‘রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউটের (আরএনএলআই) অর্থায়নে সি-সেইফ লাইফগার্ড এই সেবা পরিচালনা করে আসছিল।

গত এক যুগে এই লাইফগার্ড কর্মীরা সৈকতের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮১৫ জন পর্যটককে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।

সংস্থার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, গত ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অনুরোধে এটি দুই দফায় বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এখন আর অর্থের জোগান নেই, তাই সেবা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।

একজন লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন, যিনি এক যুগে ৯৮টি প্রাণ বাঁচিয়েছেন, আক্ষেপ করে বলেন, “সমুদ্রে কোনো পর্যটক ভেসে গেলে আমরা ঝুঁকি নিয়ে জীবন বাঁচাই, এখন আমাদের জীবনটাই ঝুঁকিতে পড়ে গেল।

” আরেক কর্মী আকরাম ত্রিপুরা বলেন, ২০ হাজার টাকা বেতনে সংসার টানতে হিমশিম খেতেন, এখন আগামী মাস থেকে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এডিএম মো. শাহিদুল আলম জানান, পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে হোটেলগুলোর ব্যবস্থাপনায় লাইফগার্ড সেবা চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে কক্সবাজার হোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, মাসে ১৪-১৫ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হোটেল মালিকদের জন্য কঠিন হবে।

অন্যদিকে, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, লাইফগার্ড না থাকলে পর্যটকদের মৃত্যুর সংখ্যা কত বাড়বে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।