রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

টঙ্গীর খতিব মহিবুল্লাহর নিখোঁজ কাণ্ডটি সাজানো

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ১১:৪৪ এএম

টঙ্গীর খতিব মহিবুল্লাহর নিখোঁজ কাণ্ডটি সাজানো

গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন টিএনটি বাজার জামে মসজিদের খতিব আলহাজ ক্বারি মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজীর চাঞ্চল্যকর ‘অপহরণ’র ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক হিসেবে পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং উদ্ধার পরবর্তী চিকিৎসকের প্রতিবেদনে খতিবের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে পুলিশ এখন এই খতিবের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানাধীন হেলিপ্যাড বাজার এলাকায় শিকল বাঁধা অবস্থায় মুফতি মহিবুল্লাহকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

কিন্তু পুলিশি তদন্তে পুরো ঘটনা উল্টে যায়। পুলিশ সূত্র জানায়, খতিব মহিবুল্লাহ ২২ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর শিলমুন সিএনজি পাম্পের সামনে থেকে অপহৃত হওয়ার দাবি করলেও, ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে তেমন কোনো আলামত মেলেনি। ফুটেজে সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে মুহিব্বুল্লাহকে দ্রুত হেঁটে যেতে দেখা যায়। তার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা তিনি যে অ্যাম্বুলেন্সের কথা বলেছিলেন, তার কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

মোবাইল ট্র্যাকিং ও ফুটেজ বিশ্লেষণে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানতে পারেন, তিনি ক্যামেরার আড়াল হয়ে টঙ্গী থেকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ এবং পরে পঞ্চগড়ে পৌঁছান। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর খতিবের শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না; তাকে শুধু ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, খতিব নিজেই নিজের পায়ে শিকল বেঁধেছিলেন এবং পুরো ঘটনাটি ছিল তার নিজের সাজানো নাটক।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, খতিবের উল্লিখিত হুমকির চিঠি সম্পর্কেও অনুসন্ধান চলছে এবং এই ঘটনা সাজানোর পেছনের মূল উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় সর্বশেষ সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টঙ্গী পূর্ব থানায় নিয়ে আসা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্রিফিং দেওয়া না হলেও একটি সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ স্বীকার করেছেন যে, ঘটনাটি তার নিজের ইচ্ছাতেই ঘটেছে। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) হেডকোয়ার্টারে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামিও এই খতিবের নিখোঁজ বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে নেওয়া চারটি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মুহিব্বুল্লাহ পাম্পের সামনে দিয়ে একাই দ্রুত গতিতে হেঁটে যাচ্ছেন। ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকও নিরাপত্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন,

তিন দফায় পুলিশের বিভিন্ন শাখা আমাদের সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হয়েছে, আমাদের ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে হুজুরকে অপহরণ করা হয়নি।’প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে মসজিদ সংলগ্ন বাসা থেকে বের হওয়ার পর মুফতি মহিবুল্লাহ নিখোঁজ হন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ইসলামী সংগঠন, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল।