রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ছুটির দিনে অফিসে ডেকে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

ছুটির দিনে অফিসে ডেকে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের হাকিমপুরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এক নারীকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করার পরপরই হিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত ওই সরকারি কর্মকর্তা দুই সন্তানের জননী এক নারী খামারিকে গল্প করার কথা বলে অফিসে ডেকেছিলেন বলে জানা গেছে। 

পুলিশ ওই রাতেই তাঁকে হেফাজতে নেয় এবং দ্রুত মামলার তদন্ত শুরু করে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী পেশায় একজন গরুর খামারি এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই পরিচয় ছিল।

 শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই কর্মকর্তা তাঁকে মুঠোফোনে কল করে অফিসে আসার আমন্ত্রণ জানান। অফিসের ভেতরে গল্পের এক পর্যায়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে দাবি করেছেন ওই নারী। এই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও দ্রুত আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

হাকিমপুর থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর শহরের হিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার নারী সংক্রান্ত বিষয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবার সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি পদে থেকে এমন নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে ইতিমধ্যে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। হাকিমপুর থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে আজ শনিবার দুপুরে দিনাজপুর আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।