এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
প্রান্তিক ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার যে সহায়তা দিচ্ছে, তা কোনোভাবেই অপচয় বা বিক্রি করা যাবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন যে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা। শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং বর্তমান সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই মন্ত্রী এদিন অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মাঝে ছাগল, গৃহনির্মাণ উপকরণ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন।
উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী ছাগল পালনের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে বিতরণকৃত এই ছাগল আগামী দুই বছর কোনোভাবেই বিক্রি বা জবাই করা যাবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী ছাগল বছরে দুইবার বাচ্চা দেয় এবং এটি সঠিকভাবে লালন-পালন করলে সুবিধাভোগীরা নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
সরকার এই সম্পদ কখনও ফেরত নেবে না বরং এটি জনগণের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবেই থাকবে। তবে কোনো কারণে যদি ছাগল মারা যায় তবে ১৫ দিনের মধ্যে ছবিসহ যোগাযোগ করলে পুনরায় ছাগল বিনিময়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের নিয়মিত স্কুলে পাঠিয়ে শিক্ষিত করে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে ঘোড়াঘাট ও ওসমানপুর এলাকায় যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ এবং দখলদারিত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন তাদের প্রতি তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন যে বাস-ট্রাক কিংবা দোকানপাট থেকে চাঁদা তোলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে তখন কোনো সুপারিশ বা তদবির করে লাভ হবে না। অপরাধীদের ক্ষেত্রে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে স্পষ্টভাবে `হ্যান্ডস অফ` বার্তা প্রদান করেন।মাদক ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চললে অপরাধীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই সময় থাকতে সচেতন হয়ে অপরাধীদের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য তিনি স্থানীয়দের পরামর্শ দেন। এছাড়া এলাকায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি রোধে জনসাধারণের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে চোরেরা স্থানীয় পর্যায়েরই হয়ে থাকে। কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প টেকসই করতে হলে স্থানীয়দের নিজ উদ্যোগে সত্য বলার সাহস রাখতে হবে এবং চোরদের প্রতিরোধ করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী সরকারের গত ৫৪ দিনের কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি দাবি করেন যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট মেরামত থেকে শুরু করে মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সারা বছরব্যাপী চলমান থাকবে। উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন