বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

কাজের সন্ধানে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন দিনাজপুরের চার কৃষিশ্রমিক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

কাজের সন্ধানে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন দিনাজপুরের চার কৃষিশ্রমিক

স্বজনদের কান্নায় ভারী ভাইগর গ্রাম

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের ভাইগর গ্রামে এখন শুধু লাশের অপেক্ষা আর স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদ। গ্রামের মেঠো পথ ধরে মানুষের ভিড় বাড়ছে সেই চারটি বাড়িতে, যেখানকার চারজন মানুষ জীবিকার তাগিদে বের হয়ে আর জীবিত ফেরেননি। একসঙ্গে গ্রামের চারজন কর্মক্ষম মানুষের এমন মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি এলাকাবাসী। 

প্রিয়জন হারানো এই চার পরিবারের প্রত্যেকেই ছিলেন তাঁদের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ভাইগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের কান্নায় পুরো গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। 

কেউ বারান্দায়, কেউবা উঠানে বসে বিলাপ করছেন। গত সোমবার রাত সোয়া তিনটার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি চালবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়লে সাতজন নিহত হন। 

তাঁদের মধ্যে চারজনই বিরামপুর উপজেলার ভাইগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা সবাই ধান কাটার কাজ করতে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন।নিহত চারজন হলেন—বীর মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দিনের ছেলে আবু হোসেন (৪২), ছইফ উদ্দিনের ছেলে বিষু মিয়া (৪৫), পলাশ হোসেনের ছেলে সুমন বাবু (২২) এবং রফিতুল্লাহ মণ্ডলের ছেলে আবদুর রশিদ (৬৫)। এই চারজনের বাইরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আরও তিনজন শ্রমিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন খালিপুর গ্রামের আফজাল হোসেন (৩৫), সোহরাব হোসেন (৪০) ও আবু সালেক (৪৫)।

নিহত আবু হোসেনের স্ত্রী শিরিন আক্তার অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তাঁর স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র সম্বল। দুই সন্তান নিয়ে এখন তিনি অথৈ সাগরে পড়েছেন। অন্যদিকে, বিষু মিয়ার দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে রাফিয়াতুল্লাহ বাবার শেষ স্মৃতি হাতড়ে বলছে, “বাবা বলেছিল ভালোভাবে পড়াশোনা করতে এবং মা-বোনদের দেখে রাখতে। আমাদের রেখে বাবা আজ একেবারেই চলে গেল।” অভাবের কারণে খরচ বাঁচাতে তাঁরা বাসে না গিয়ে ট্রাকে করে যাচ্ছিলেন, আর সেই ট্রাকই তাঁদের জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াল।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই শোকাবহ ঘটনায় পুরো বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।