বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

পল্লীশ্রীর হাত ধরে দিনাজপুরে নতুন জীবন পাচ্ছেন নির্যাতিত নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ৩, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

পল্লীশ্রীর হাত ধরে দিনাজপুরে নতুন জীবন পাচ্ছেন নির্যাতিত নারীরা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরে যৌতুক ও অমানবিক পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে চরম অসহায়ত্বে পড়া শত শত নারীকে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছে এবং আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন “পল্লীশ্রী”। উপজেলার রামডুবি সুন্দরপুর ইউনিয়নের স্বপ্নার মতো অসংখ্য নারী যৌতুকের নির্মম বলি হয়ে কিংবা শ্যামলা গায়ের রঙের কারণে রোখসানা খাতুনের মতো ডিভোর্সের মুখোমুখি হয়ে একসময় অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছিলেন। 

কিন্তু আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের মাধ্যমে এই লড়াকু নারীরা এখন সমাজের মূল স্রোতে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন।নির্যাতনের শিকার নারীদেরকে কেবলমাত্র আইনি বা সামাজিক সহায়তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের মর্যাদাপূর্ণ টেকসই পুনর্বাসনের জন্য স্বাবলম্বী করা অত্যন্ত জরুরি।

দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং পল্লীশ্রীর দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী, এই জেলায় বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২ জনেরও বেশি সাধারণ নারী নানাভাবে মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। 

অথচ এই দিনাজপুরেই একসময় ঐতিহাসিক ইয়াসমিন ট্রাজেডিকে কেন্দ্র করে নারী অধিকার রক্ষা ও সুরক্ষায় এক বৃহৎ ও ঐতিহাসিক গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিচারকার্যে চরম দীর্ঘসূত্রিতা, আইনি প্রায়োগিক ক্ষেত্রে নানাবিধ দুর্বলতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই মূলত সমাজে নারী নির্যাতনের এই উদ্বেগজনক প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। প্রাপ্ত দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী, গত ২০২৫ সালে জেলায় ৮১৪টি, ২০২৪ সালে ১০৮৯টি এবং ২০২৩ সালে ১৩৬৩টি নারী নির্যাতনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীলতা দূর করা সম্ভব হলে সমাজ থেকে পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পল্লীশ্রী গত ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত মোট ৮৪৭ জন নির্যাতিত নারীর অধিকার রক্ষায় কাজ করেছে যার মধ্যে ৭৩৫টি অভিযোগ সামাজিক সালিশের মাধ্যমে সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। 

সংস্থাটি গত এক বছরেই ৯৭ জন চরম নির্যাতিত নারীকে কম্পিউটার গ্রাফিক্স, সেলাই, বুটিকস এবং ব্যাগ তৈরিসহ বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি প্রারম্ভিক মূলধন বা পুঁজি দিয়ে ১১৫ জন সফল নারী উদ্যোক্তা তৈরি করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম জানান, নারীদের নিজের পায়ে দাঁড় করানোর এই মহৎ কার্যক্রমের পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় দাবি।