সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পল্লীশ্রীর বাৎসরিক সমাবেশ নারীর ক্ষমতায়নে সমন্বয়ের তাগিদ

মো: মামুনুর রশিদ

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

পল্লীশ্রীর বাৎসরিক সমাবেশ নারীর ক্ষমতায়নে সমন্বয়ের তাগিদ

ছবি: দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর সদর উপজেলার এক নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে নারী ক্লাবের সদস্য এবং বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাৎসরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা পল্লীশ্রী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই সমাবেশের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লীশ্রীর মানবসম্পদ ইনচার্জ শামিম আরা পপি। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোর্শেদ আলী খান।

তিনি বলেন, নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক দপ্তরের আওতাধীন সেবাগুলোর সঙ্গে প্রান্তিক নারীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এতে নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি সেবা সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি হবে। নারীদের সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে তুলে ধরতে পারলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম আজম জানান, সমাজসেবা কার্যালয় থেকে পরিচালিত নানামুখী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সেবা সম্পর্কে নারী ক্লাবের সদস্যদের সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। সরকারপ্রদত্ত বিভিন্ন ভাতা যথাসময়ে বিতরণ করা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনি সেই অধিকার ও সেবা বুঝে নেওয়াও নাগরিকদের মৌলিক দায়িত্ব। আইনগত সুরক্ষার বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরনবী বলেন, মাদক নির্মূল এবং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। আইনি যে কোনো সংকটে ভুক্তভোগীদের সরাসরি থানায় যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এক নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. কুলসুম, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শংকর চন্দ্র রায় এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম হাসানুজ্জামান নুর। সেবাগ্রহীতা হিসেবে নারী ক্লাবের সদস্য মেরী খাতুন, মোছা. গোলাপী বেগম, তসলিমা বেগম, মায়া, হিরা বেগম, মোছা. সাদাত, সুমারু কুজুর, সাবিনা খাতুন, পিংকি রায় ও সিবানী উড়াও বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রাপ্তির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন প্রকল্পের সমন্বয়কারী রওনক আরা হক নীপা।

সভাপতির বক্তব্যে শামিম আরা পপি বলেন, সেবা প্রদানকারী সরকারি দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের সেবাগ্রহীতাদের মাঝে সেতুবন্ধ রচনার মধ্য দিয়ে ক্লাবের সদস্যরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা রোধ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে নারীরা সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও নারী নেতৃত্ব সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নির্ভয়ে সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।