রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,
সাহিত্য ও সংস্কৃতি

কথাসাহিত্যিক শওকত আলীকে নিয়ে দিনাজপুরে স্মরণ ও আলোচনা সভা

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

কথাসাহিত্যিক শওকত আলীকে নিয়ে দিনাজপুরে স্মরণ ও আলোচনা সভা

ছবি: দিনাজপুর টিভি

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজনে দিনাজপুরে একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত আলীকে নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য সংগঠন উত্তরতরঙ্গ সাহিত্য পরিষদের সহযোগিতায় শহরের ঘাসিপাড়াস্থিত পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) মিলনায়তনে ‘ব্রাত্যজনের কথাকার শওকত আলী’ শীর্ষক এই স্মৃতিচারণমূলক সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্তরতরঙ্গ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান গোপন।

কথাশিল্পী শওকত আলীর বহুমাত্রিক সাহিত্যকর্মের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও বিশদ আলোচনা করেন মুখ্য আলোচক কবি ও কথাসাহিত্যিক আযাদ কালাম। আলোচনায় আরও অংশ নেন কবি ও গল্পকার ফরিদুল আজাদ মিলন, কবি ও প্রাবন্ধিক মাসুদ মুস্তাফিজ এবং কথাসাহিত্যিক এমরান কবির।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শওকত আলীর রচিত কালজয়ী গ্রন্থ ও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ থেকে নির্বাচিত অংশ পাঠ করা হয়।

পাঠানুষ্ঠানে অংশ নেন প্রয়াত কথাসাহিত্যিকের নাতি খুশ নাসিব-বিন-ফয়সাল, কবি নিরঞ্জন হীরা, রাজিয়া সুলতানা পপি, আলমগীর কবির আহসান, প্রশান্ত বসাক ও লায়লা চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহ-ই-মবিন-জিন্নাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে কবি ও লেখকদের অবদান অনস্বীকার্য। সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে চিন্তাশীল সাহিত্যিকদের সৃষ্টিশীলতাকে মূলধারায় ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচকেরা উল্লেখ করেন, কথাশিল্পী শওকত আলী আজীবন তাঁর শক্তিশালী লেখনীতে গ্রাম ও নগরের খেটে খাওয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তহীন লড়াই-সংগ্রামের নিখুঁত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি স্বদেশের অতীত ঐতিহ্য, সমকালীন বাস্তবতা, নগর ও প্রান্তিক জনপদ এবং সামগ্রিক মানব অস্তিত্বের জটিল টানাপোড়েনকে সাহিত্যে ধারণ করার দুরূহ কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ করে দিনাজপুরের আঞ্চলিক ভাষাকে তিনি বৈশ্বিক সাহিত্য পরিমণ্ডলে অনন্য মর্যাদায় তুলে ধরেছেন। তাঁর সৃষ্টিশীল রচনার পরতে পরতে মানুষ, প্রকৃতি ও সময়ের মেলবন্ধন চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

পুরো আয়োজনের সঞ্চালনা করেন কবি কমল কুজুর ও মুনিরা লুবনা। আলোচনা পর্বের শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক।