মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি দামের চাপ কমাতে সরকার প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে।
শনিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সংসদীয় কমিটির সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন তেল নিয়ে একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং সমপরিমাণ তেলের আরেকটি জাহাজ শিগগিরই দেশে পৌঁছাবে।
তবে চিফ হুইপ অভিযোগ করেন যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এবং চোরাচালানিরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম কম হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এই পাচার ও কারসাজি বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সারা দেশে চিরুনি অভিযানসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে রোববার সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী বিস্তারিত ব্রিফ করবেন।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সড়ক ও ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভার শুরুতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন