মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। এশিয়ার বাজারে সপ্তাহের শুরুতেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ৮৪ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরাইল এবং আরব দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়।
এই সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় অংশে ছড়িয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায়। সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৭২ ডলারের কাছাকাছি। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা বজায় থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক অঞ্চল হওয়াতে এই সংঘাত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে তেলের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আমদানিকারক দেশগুলো এখন চড়া দামে তেল মজুত করতে বাধ্য হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এশীয় অঞ্চলের দেশগুলো তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন