মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা ও আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৮ মার্চ বিকেলে স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সোমবারও দেশের বাজারে রেকর্ড উচ্চমূল্যে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
নতুন দাম অনুযায়ী এখন থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে একজন ক্রেতাকে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা ব্যয় করতে হবে। সর্বশেষ সমন্বয়ে এই মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
বাজুসের বর্তমান মূল্য তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধুমাত্র ২২ ক্যারেট নয় বরং সব ধরনের স্বর্ণের দামই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আজ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকায়। এছাড়া মধ্যবিত্তের পছন্দের ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকায়।
যারা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী তাদের জন্য প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা। উল্লেখ্য যে, এই নির্ধারিত দামের বাইরেও ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও জাঁকজমক অনুযায়ী মজুরির এই হার আরও বাড়তে পারে।চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৪৯ বার পরিবর্তন বা সমন্বয় করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ বার কমানো হয়েছে। স্বর্ণের বাজারের এই ঘন ঘন পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে বাজুস দেশীয় বাজারে এই মূল্য সমন্বয় করে থাকে। বিয়ের মৌসুম বা ধর্মীয় উৎসবের সময় স্বর্ণের এই লাগামহীন দাম মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে বড় কোনো দরপতন না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণের এই উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন