মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পথ সুগম করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ অনুযায়ী রাশিয়াকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। মূলত রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় জ্বালানি তেল আমদানিতে বিশেষ ছাড় বা ‘স্যাংশন ওয়েভার’ পাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার আগামী দুই মাসের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে অথবা প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির জন্য এই বিশেষ অনুমতির আবেদন করেছে।
সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
যুগ্মসচিব জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে চলতি মার্চ মাসে গত বছরের মার্চের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো জটিলতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারে যে কৃত্রিম সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে তার কোনো যৌক্তিক কারণ মন্ত্রণালয় দেখছে না। মাঠপর্যায়ে তেল মজুদের প্রবণতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চলতি মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।ভারত থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়ে তিনি তথ্য দেন যে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
চাহিদার বাকি অংশ মেটাতে ভারত ছাড়াও অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে তেল আনার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে `ফুয়েল কার্ড` চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এজন্য একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে যা প্রাথমিকভাবে অকটেন ও পেট্রলচালিত যানবাহনের জন্য ব্যবহার করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। এছাড়া আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে আরও দুটি কার্গো থেকে প্রায় ৫৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ডিজেল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসে দেশে দেড় লাখ মেট্রিক টন নতুন ডিজেল যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই পূরণ করে ডিজেল, যার বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই। অন্যদিকে অকটেন নিয়ে বাজারে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে সেটিকে নিছক `মনস্তাত্ত্বিক সংকট` হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন