রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

জ্বালানি তেলের দাম কি কমবে? আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম

জ্বালানি তেলের দাম কি কমবে? আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিয়মিত মাসিক সমন্বয় নীতির ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। 

এর ফলে দেশের বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে বৈশ্বিক প্রবণতার একটি ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।গত সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মূল্য সমন্বয়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। 

জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আজই জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। 

সরকারের এই পদক্ষেপকে জ্বালানি খাতে একটি সুশৃঙ্খল ও পূর্বানুমেয় নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এই মাসিক সমন্বয় প্রক্রিয়াটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি এপ্রিল মাসের চাহিদা মেটাতে আরও প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। 

ফলে আসন্ন দিনগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবহারের একটি বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। পরিসংখ্যান বলছে, মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই পূরণ করা হয় এই ডিজেল দিয়ে। বিশেষ করে কৃষি সেচ ও গণপরিবহন খাতে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ফলে এই জ্বালানির দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোলের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সেগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা কম।

জ্বালানি ব্যবহারের চাপ কমাতে সরকার আরও কিছু বিকল্প পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো কিংবা অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা। এমনকি পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ধরনের নিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ যেমন কমবে, তেমনি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে। তবে আজকের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কেমন প্রভাব পড়ে সেটিই এখন দেখার বিষয়।