এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে এখন ৩৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন এই বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডলারের সংকটের এই সময়ে রিজার্ভের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় এক স্বস্তির খবর।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এই ইতিবাচক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২ এপ্রিল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪৩২ দশমিক ৮০ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর আগে গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত এই গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার যুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ অনুযায়ী বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন হয়। এই পদ্ধতিতে ২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮১২ দশমিক ০৪ মিলিয়ন বা ২৯ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে। আগের দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইএমএফের নির্ধারিত এই স্বচ্ছ হিসাব পদ্ধতিতেও রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা বেশ স্থিতিশীল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায়গুলো বিয়োগ করার মাধ্যমে। সম্প্রতি মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ ৩৭৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকলে রিজার্ভের এই অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য ফেরাতে এই পরিমাণ রিজার্ভ বড় ধরণের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, তারা নিয়মিতভাবে এই রিজার্ভের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এটি বর্তমান ধারা বজায় রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন