সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

মাথাপিছু আয় ২৭৬৯ ডলার, লক্ষ্য ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

মাথাপিছু আয় ২৭৬৯ ডলার, লক্ষ্য ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য প্রদান করেন। সংসদ অধিবেশনে তিনি দেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী জানান বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। 

বিশেষ করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রচলিত অর্থনীতির বাইরে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও স্পোর্টস অর্থনীতিকে নতুন সম্ভাবনার খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে সরকার কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর নির্ভর না করে বহুমাত্রিক পন্থায় এগোচ্ছে। এর মধ্যে উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রবাস আয় বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

দেশে বেকারত্ব কমাতে এবং নতুন কাজের সুযোগ তৈরিতে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এসব পদক্ষেপের ফলে নতুন নতুন কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে যা পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা এবং নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করতে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এসব উদ্যোগের একটি বড় অংশ এরই মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং বাকিগুলো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।