সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

দেশের অর্থনীতির বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং শিল্প খাতের প্রসারে ব্যাংক ঋণের সুদের হার পর্যায়ক্রমে এক অঙ্কে বা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এই প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। 

এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এই মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মো. মোস্তাকুর রহমানকে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান গভর্নর এমন এক চ্যালেঞ্জিং সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যখন দেশের অর্থনীতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানাবিধ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 

এফবিসিসিআই মনে করে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বর্তমান গভর্নরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মো. আবদুর রহিম খান বলেন বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বজায় রাখতে ঋণের সুদের হার স্থিতিশীল রাখা জরুরি। তিনি বলেন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেবল সুদের হার বাড়ানোই একমাত্র পথ নয়। 

বরং আর্থিক খাত, রাজস্ব খাত এবং সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে পরিপূর্ণ সমন্বয় না থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসার জন্য তিনি গভর্নরকে অনুরোধ জানান।ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে ডলারের যোগান স্বাভাবিক রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ পলিসি সহায়তা প্রদান এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ যথাসম্ভব বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে বিদেশগামীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে ইডিএফ ফান্ডের পরিধি বাড়ানো এবং এটি সকল রপ্তানি খাতের জন্য উন্মুক্ত রাখার অনুরোধও জানানো হয়।

কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত সহায়তার জন্য এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংকটগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর। ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী মনিটরি পলিসি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় গতিশীল হবে।

এদিনের গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক। এ ছাড়াও বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম, বারভিডার সভাপতি মো. আবদুল হক এবং উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়ালসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বৈঠকে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।