এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘোষিত বর্তমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা যে মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে আরও বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরা হয়েছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়।
উল্লেখ্য যে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই একটিমাত্র জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাতের আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ যাতায়াত করত যা যুদ্ধের সময় কমে মাত্র কয়েকটিতে নেমে আসে। যদিও বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে তবে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি এখনো আগের মতো সচল হয়ে ওঠেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে ইরান ওই পথে জাহাজ চলাচলের ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপ করার চেষ্টা করছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাদের মতে কেবল ফি নয় বরং সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতাই মূলত তেলের দাম চড়া থাকার প্রধান কারণ। এর পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বিভিন্ন হামলার ফলে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির বাজারেও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে যা কাটিয়ে উঠতে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
বিশ্বজুড়ে তেলের এই চলমান সংকট কেবল জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির মতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীর হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর অবস্থানও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধের কারণে বিশাল আকৃতির এই জাহাজগুলো বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এগুলো ফের বন্দরে ফিরে এসে তেল লোড করতে বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।এছাড়া কারিগরি দিক থেকেও বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং মজুতাগারগুলো পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ তাদের তেলকূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে একটি তেলকূপ বা রিফাইনারি পুনরায় চালু করা কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ টেপার মতো সহজ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ একটি কারিগরি প্রক্রিয়া। একইসঙ্গে যুদ্ধের সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে যা মেরামত করে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসতে আরও প্রতীক্ষা করতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন