এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১২ দিনেই বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই কয়েক দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। সোমবার ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এই ইতিবাচক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রথম ১২ দিনে যেখানে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, সেখানে এবার তা বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালে মোট ২ হাজার ৭৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২১ দশমিক ১০ শতাংশ।
এর আগে গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। ওই এক মাসেই দেশে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো একক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ ছাড়াও বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেশ ইতিবাচক ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বাজারমুখী করা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি আরোপের ফলে প্রবাসীরা এখন বৈধ পথেই টাকা পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন। বিশেষ করে আসন্ন ধর্মীয় উৎসব ও নববর্ষের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বর্তমান মাসে আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যাংকগুলোও এখন প্রবাসীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ তদারকি করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন