মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধস

বিশ্ববাজারে সোনার দামের ধস

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই সম্পদের দরপতনে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদিন স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৭১১ দশমিক ৫১ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। 

লেনদেনের এই চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সোমবারের এই দর গত ৭ এপ্রিলের পর সবচেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সোনার এই ধারাবাহিক দরপতন খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। আগামী জুন মাসে ডেলিভারি দেওয়ার শর্তে যে সোনা কেনাবেচা হয়, তার দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর ফলে আউন্স প্রতি সোনার দাম ৪ হাজার ৭৩২ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে আসে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সোনার দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি কিংবা বৈশ্বিক সংকটের সময় সোনা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জনপ্রিয় হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার সোনার বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। যেহেতু সোনা একটি সুদবিহীন সম্পদ, তাই সুদের হার বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীরা সোনার পরিবর্তে অন্যান্য লাভজনক খাতে ঝুঁকছেন। এর বাইরে মার্কিন ডলারের মান এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোকেও এই দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। 

ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে সোনা কেনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।তেলের বাজারের অস্থিরতা এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ হয়ে আসায় সোনার দামের ওপর এই চাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। বাজার পর্যবেক্ষক এবং সাধারণ ক্রেতারা এখন পরবর্তী বাজার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।