এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর কমপিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স বা বিএসিএমএসের আয়োজনে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড কম্পিউটেশন সম্মেলন শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে গ্রিন কেমিস্ট্রি অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ইনোভেশন: ফ্রম মলিকুলার ডিজাইন টু ক্লিন টেকনোলজি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির হেনরিচ হেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান গবেষক প্রফেসর ক্রিস্টোফ জানিয়াক।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনফারেন্স আয়োজক কমিটির কো-কনভেনর প্রফেসর ড. বলরাম রায়।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার ও প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়।
এর ফলে দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের আয়োজন নতুন জ্ঞান অর্জন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার প্রফেসর ক্রিস্টোফ জানিয়াক তাকে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটেশনাল ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের মতো ক্ষেত্রগুলো বর্তমানে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ ও নতুন উপকরণ উদ্ভাবনে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন যে কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রির ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ইতোমধ্যে তিনজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন, যা এই ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের মধ্যে কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষকের কাজের উদাহরণ দেন তিনি। বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের ক্ষেত্রে কম্পিউটেশনাল বিশ্লেষণ ক্রমান্বয়ে অপরিহার্য হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উপাচার্য এই আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষক, গবেষক ও শিল্পখাতের পেশাজীবীদের জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। গ্রিন কেমিস্ট্রি, রিনিউএবল এনার্জি, ক্লিন টেকনোলজি এবং এনভায়রনমেন্টাল রেমিডিয়েশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখানে গবেষণালব্ধ তথ্য ও উদ্ভাবনী ধারণা বিনিময় করা হবে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে কী-নোট লেকচার, টেকনিক্যাল সেশন এবং পোস্টার উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে দেশ-বিদেশের বহু গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন