এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিনব্যাপী প্রত্ন নিদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে এই বিশেষ আয়োজনের পর্দা উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব নতুনভাবে তুলে ধরেন। উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহাসিক স্থাপনার অসাধারণ সব প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা প্রদর্শন করা হয় যা আগত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
এখানে মূল বিষয়টি হলো কেবল বই পড়ে ইতিহাস জানা আর চোখের সামনে নিদর্শন দেখা এক বিষয় নয়। প্রদর্শনীতে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তাজি মন্দির ঢাকার ঐতিহ্যবাহী লালবাগ কেল্লা নওগাঁর প্রাচীন কুসুম্বা মসজিদ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাচীন গৌর শহরের শৈল্পিক উপস্থাপনা স্থান পায়।
ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি রংপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার এবং বিভিন্ন প্রাচীন পোশাকের সমাহার উৎসবটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা এবং এসব অমূল্য সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরি করাই মূলত এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মায়া আক্তার স্টল পরিদর্শনের সময় জানান যে এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা শুধু ইতিহাস পড়ছেন না বরং ইতিহাসকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তুলে ধরছেন।
আরেক শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ জানান এমন আয়োজন থেকে অনেক অজানা তথ্য জানার সুযোগ হচ্ছে যা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান দান করে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়ামুন নাহার নিমা বলেন আমাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনে এই ধরণের উৎসবের কোনো বিকল্প নেই।
উৎসবের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ড. সোহাগ আলী পুরো আয়োজনের সফলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন পুথিগত বিদ্যাকে মানুষের মাঝে সহজে ছড়িয়ে দেওয়ার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে বড় ভূমিকা রাখবে। সারাদিনব্যাপী এই উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সমাগম ঘটেছিল যা অনুষ্ঠানটিকে একটি পরিপূর্ণ সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপান্তর করে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন