মে ১২, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝোলানো এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একাধিক শিক্ষকের পদত্যাগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।গতকাল সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নিয়ে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষকরা পরে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে প্রশাসনিকভাবে উপাচার্যকে অসহযোগিতার আহ্বান জানান এবং কক্ষত্যাগের অনুরোধ করেন।
রেজিস্ট্রার কক্ষত্যাগ করার পর কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়েও একইভাবে তালা ঝোলানো হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি না হলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দপ্তর প্রধান বলেন, শিক্ষকদের নির্দেশে তালা দেওয়া হয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে অফিসে তালা দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন।পদোন্নতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টর, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক এবং একজন সিন্ডিকেট সদস্য তাদের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সংকটের সমাধান হয়নি।
সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় শিক্ষকরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও জানান, উপাচার্যের সঙ্গে থেকে আর কাজ করা সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।আন্দোলনকারী শিক্ষক ও ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ছয় মাস পার হলেও বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। গত ৮ মে রাতে জরুরি ভিত্তিতে এজেন্ডাবিহীন সিন্ডিকেট সভা ডেকে অধিকাংশ সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কারণে তারা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন এবং তাকে কোনো প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হবে না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম। তিনি জানান, জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, দুই মাসের মধ্যে পদোন্নতি সংক্রান্ত সংবিধি প্রণয়ন করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সেখানে কেউ ভিন্নমত পোষণ করেননি। তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সরকার তাকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে এবং যতদিন দায়িত্ব থাকবে তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যাবেন। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পদোন্নতি নীতিমালা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেই বিভাজন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। একটি অংশ অধ্যাপক পদের জন্য পৃথক নীতিমালার দাবিতে অনড় থাকলেও সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক পদের পদোন্নতিপ্রত্যাশীদের বড় অংশ অভিন্ন নীতিমালায় আপত্তি দেখাচ্ছেন না। এই অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে সাধারণ শিক্ষকদের অনেকে মনে করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন