রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

বড় দুর্যোগ হলে দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৩০, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

বড় দুর্যোগ হলে দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে

দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এবার সম্পূর্ণ অভিন্ন বা একই প্রশ্নপত্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নতুন নিয়মের কারণে দেশের কোনো একটি বড় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে প্রয়োজনে শুধু ওই অঞ্চলে নয়, বরং সারা দেশেই একযোগে পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে। করোনাভাইরাস সংকটের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের ভিত্তিতে এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই বিশেষ পরিস্থিতির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, দেশের কোনো একটি বিভাগে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসলে আংশিক পরীক্ষা না নিয়ে বরং পুরো পরীক্ষাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে অন্য একটি সুবিধাজনক তারিখে নতুন করে দেশজুড়ে পরীক্ষার আয়োজন করা হতে পারে যাকে বোর্ড কর্তৃপক্ষ সার্বিক মূল্যায়নে শ্রেয় মনে করছে। 

তবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা করে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এর পাশাপাশি বিশেষ প্রাকৃতিক বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রে আসতে সাময়িক দেরি হলে তা অত্যন্ত নমনীয়ভাবে দেখার জন্য স্থানীয় মাঠ প্রশাসন ও কেন্দ্র সচিবদের বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কোনো যৌক্তিক দুর্ঘটনা বা অনিবার্য কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে বিলম্ব হলে পরীক্ষার্থীকে মানসিক চাপমুক্ত রাখতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় বা স্পেস দেওয়ার মানবিক অবস্থান বোর্ডের রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম দিনে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, এছাড়া মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে এবং পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন।

সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবেন যার মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন। অন্যান্য সাধারণ বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে ২০৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুরে ২১২টি কেন্দ্রে ১ লাখ তেরো হাজার ৪৭৯ জন, যশোরে ২৪০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন এবং চট্টগ্রামের ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। 

এছাড়া কুমিল্লার ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশালের ১৪২টি কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সাধারণ বোর্ডের বাইরে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।