বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় দিনে রক্তাক্ত শাটডাউন, কারফিউ জারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:১৩ এএম

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় দিনে রক্তাক্ত শাটডাউন, কারফিউ জারি

ছবি - সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৯ জুলাই সারা দেশে দ্বিতীয় দিনের মতো ‍‍`কমপ্লিট শাটডাউন‍‍` কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এদিন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নজিরবিহীন সহিংসতায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৬২ জন, রংপুরে দুজন এবং সাভার, সিলেট ও নরসিংদীতে একজন করে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তিন দিনে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫০ জনে।নিহতদের অধিকাংশের শরীরে গুলি ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটে এদিন। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কারফিউ জারি ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকেই রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, গুলশান ও কুড়িল এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। কুড়িল এলাকায় র‌্যাবের হেলিকপ্টার থেকে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বিটিভি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রংপুর, সিলেট, নরসিংদী, ময়মনসিংহ ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় কারারক্ষীদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা ১০৩ এবং আহতের সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি বলা হলেও বিভিন্ন সূত্রে সংখ্যাটি আরও বেশি ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা সরকারের সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ছিল ছাত্রহত্যার দায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান, অন্যদিকে তৎকালীন সরকার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছিল।