আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত মসজিদুল আল-আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস হলো ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। কাবাঘর নির্মাণের চল্লিশ বছর পর এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আসসিলসিলা এবং কুব্বাত আন নবী নামক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অবস্থিত। এই পুরো পবিত্র স্থানটিকে একত্রে ‘হারাম আল শরিফ’ নামে অভিহিত করা হয়। এছাড়া স্থানটি ইহুদি ধর্মেও অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, পবিত্র মিরাজের রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মসজিদুল হারাম থেকে এই আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকেই তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে পবিত্র যাত্রা করেছিলেন। হাদিস বিশারদদের মতে, উপাসনার এই সম্পূর্ণ স্থানটি মূলত নবী সুলাইমান (আ.) নির্মাণ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। নির্মাণের পর থেকেই এটি বিভিন্ন নবীর ইবাদতের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে এবং এটিই ছিল মুসলিমদের প্রথম কিবলা। পরবর্তীকালে হিজরতের পর কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলে নতুন কিবলা হিসেবে কাবা নির্ধারিত হয়। বর্তমানে আল-আকসা বলতে কিবলি মসজিদ, মারওয়ানি মসজিদ ও বুরাক মসজিদের সমন্বিত প্রাঙ্গণকে বোঝায়।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.) বর্তমান মসজিদের স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালেকের যুগে মসজিদটি পুনর্নির্মিত ও সম্প্রসারিত হয়, যার কাজ ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলে সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ের বড় বড় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আব্বাসীয় ও ফাতেমীয় খলিফাদের শাসনামলে একাধিকবার মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। বিশেষ করে ফাতেমীয় খলিফা আলি আজ-জাহিরের সময়ে নির্মিত কাঠামোটি বর্তমান সময় অবধি টিকে রয়েছে।
বিভিন্ন শাসক ও রাজবংশের শাসনামলে এই মসজিদের গম্বুজ, মিহরাব, আঙিনা এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোয় বিভিন্ন সংস্কার কাজ চালানো হয়। ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করার পর এটিকে প্রাসাদ এবং কুব্বাত আস সাখরাকে গির্জায় রূপান্তর করেছিল। পরবর্তীতে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী জেরুজালেম পুনরায় জয় করার পর এই পবিত্র স্থানে মুসলিমদের উপাসনা পুনরায় শুরু হয়। সময়ে পুরোনো শহরটি ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মসজিদটির সার্বিক পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান জর্দান ও ফিলিস্তিন নেতৃত্বাধীন ইসলামি ওয়াক্ফের অধীনে রয়েছে।
‘আল-আকসা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দূরবর্তী মসজিদ। ভৌগোলিক অবস্থান ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে এই পবিত্র স্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতির সুতোয় গাঁথা এই প্রাঙ্গণ বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে রয়েছে বলে তুলে ধরা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন