এপ্রিল ২, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
দীর্ঘ ৫৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালো মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা গত বুধবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে তাদের অত্যন্ত প্রতীক্ষিত আর্টেমিস-২ মিশনের সফল সূচনা করেছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের পর এটিই প্রথম কোনো মানুষবাহী মহাকাশযাত্রা, যা চাঁদের কক্ষপথের দিকে রওনা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটির সাক্ষী হতে উৎক্ষেপণস্থলে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ, যারা রকেটটি আকাশে উড়াল দেওয়ার সাথে সাথে উল্লাসে ফেটে পড়েন।
নাসার তথ্যমতে, এই মিশনে ব্যবহৃত ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া এবং ৯ ফুট উঁচু। উৎক্ষেপণের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি তার নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে অবস্থান করে নভোচারীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন।
যদি প্রাথমিক ধাপের সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবেই এটি চাঁদের দিকে যাত্রার চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাবে। মহাকাশযানের নিরাপত্তা এবং এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করাই এই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।আর্টেমিস-২ মিশনের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নিয়েছেন চারজন দক্ষ নভোচারী। তারা হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।
অভিযানের শুরুতে জেরেমি হ্যানসেন এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন যে, এই যাত্রা কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করছে। বৈশ্বিক এই মিশনের দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা। যদিও এই নির্দিষ্ট মিশনে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।আগামী ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা মূলত চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবেন। এর আগে মানুষকে বহন করেনি এমন আধুনিক মহাকাশযানের কারিগরি দিকগুলো সরাসরি যাচাই করাই বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মূলত ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ীভাবে মানুষ পাঠানোর এক বিশাল প্রস্তুতির অংশ। আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এই অভিযান। কেবল চাঁদ নয়, বরং এখান থেকেই ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখছে নাসা। ঐতিহাসিক এই যাত্রার সফল সমাপ্তি মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন